হেরোইনের ব্যবসা করে তুমি বুলি আওড়াচ্ছো মানবতার
আর তেজস্ক্রিয় দুধ আমাদানি করে গড়ে তুলছো কালো টাকার পাহাড়
তবে সন্ধ্যে এলে, কোনও শুদ্ধ সংগীতের আসরে
তুমি সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করো আর
হুইসকি সেবন করো, হুইসকি সেবন করো।
এ যুগের পাদুকা, এ যুগের প্রসাধনী
এ যুগের বড় কথা, এ যুগের হয়রানি
তুমি যুগের দোহাই দিয়ে সেমিনারে লেকচারে
নাক সিটকিয়ে বলো,
বন্ধ করো এই অশ্লীল ব্যান্ডবাজি।
তবে ব্যান্ডসংগীত যদি অশ্লীল হয়
আর নারীপক্ষ যখন নিরব রয়,
প্রতিটি পণ্য বিক্রিতে ব্যবহার দেখি কেন
বিজ্ঞাপনের শত সুড়সুড়ি রমণী।
ত্যাগ করো এই সামাজিক কোষ্ঠকাঠিন্য
দিনগুলো নতুন সকালের জন্য
মেনো না বাধা।
ঠুনকো আদব-বেয়াদবি
যে শোষণের মন্ত্র
তা জেনে গেছে আজকের প্রজন্ম
অস্থিরতা।
আর এরপর কেউ চাপাবাজি করেন
ঢাকার ছেলেরা চিৎকার করে বলেন
ধন্যবাদ ভালো দিয়া গেলেন
ধন্যবাদ ভালোই দিয়া গেলেন।
ব্যান্ডসংগীতের ছত্রছায়ায় থেকে
দিচ্ছি ঝাড়ি, আমি টুয়েন্টি ফোর আওয়ার
শুধু ইংরেজিতে। ইংরেজি কথা বলি, বাংরেজি গান করি
ইংরেজি ভাব-চক্কর আর ইংরেজি স্বপ্ন দেখি!
আমার মাকে ভালোবাসি
আমার দেশকে ভালোবাসি
তবে জানি না কেন আমি হেইট করি
এসব খঁ্যাৎ খঁ্যাৎ খঁ্যাৎ বেঙ্গলি।
ফেনসিডিল খেয়ে ফেন্সি মুডে
তুমি ফিজিকালি ইন বাংলাদেশ
বাট্ মেন্টালি ইন দা ইউএসএ।
দিনে ঘুমাচ্ছো আর রাতে ঝিমাচ্ছো
মিষ্টি গরম চা আ-হা
আর কপাল ঘামাচ্ছো
তবে কনসার্টে সুযোগ পেলে
করো মাদকবিরোধী গলাবাজি।
এ যে কুরুচির মহামারি
আর ভদ্রতার এক ভ্রান্ত ভন্ডামি।
ত্যাগ করো এই সামাজিক কোষ্ঠকাঠিন্য
দিনগুলো নতুন সকালের জন্য
মেনো না বাধা।
ঠুনকো আদব-বেয়াদবি
যে শোষণের মন্ত্র
তা জেনে গেছে আজকের প্রজন্ম
অস্থিরতা।
আর এরপর কেউ চাপাবাজি করেন
ঢাকার ছেলেরা চিৎকার করে বলেন
ধন্যবাদ ভালো দিয়া গেলেন
ধন্যবাদ ভালোই দিয়া গেলেন।
একুশে ফেব্রুয়ারি গায়ে খাদি পাঞ্জাবি
হঠাৎ মনে পড়ে, আমি যে বাঙালি!
মিষ্টি কটকটি, বই মেলা চটপটি
তোমার বাঙালিত্বের কাছে হার মানি
আর ওরা এলো
শহীদ মিনার হলো লাঞ্ছিত
বাহান্নে যে শহীদ মিনার তৈরি হলো রক্ত দিয়ে
বাহাত্তরে যে শহীদ মিনার পুনর্নিমাণ হলো
লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তে
এলো ঊনিশশো তিরানব্বই
বাঙালির তেরোশো তিরানব্বই-এর ক্রান্তিলগ্নে
আবারও সেই শহীদ মিনারের অবমাননা
আর তুমি গায়ে লাগালে বাতাস আর
রাখলে তোমার প্রতিবাদ
তাও কিছু উটকো ইংরেজিতে।
ডানপন্থী আর বামপন্থী আর উগ্রপন্থী আর এনজিও-পন্থী
গরিব মারার আছে হাজার পাঁয়তারা
লক্ষ লক্ষ ফিকির ফন্দি
দেখো ভিক্ষা বিতরণেও বাঙালি অক্ষম
তাই গঠিত হচ্ছে দিনে ও রাত্রে
প্রকাশ্যে আড়ালে
নব্য নব্য ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি।
গরিব গরিব রবে বড়লোক বড় হবে
বুদ্ধিজীবীগণ থাকবেন বেঁচে
বুদ্ধিদীপ্ত কোনো ছদ্মবেশে
ওদিকে গণতন্ত্রের নামে কাটা rifle হাতে
মরবে যুবক অজানা কারো নির্দেশে।
তবু বাংলার ধুলো ওড়া আকাশে
আজও কেন শুনি রবি ঠাকুরের সেই হাহাকার বাণী
“সাতকোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী
রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি”
Discussion
Public comments for Samajik Koshthokathinno are available on the discussion page.
View discussion